নাছির উদ্দিন সোহেল, মহেশখালী;
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অনিরাপদ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায় মানবপাচার প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং মানবপাচারের শিকার ভুক্তভোগীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার মো. শিহাবুল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের কক্সবাজার সমন্বয়ক অজিত নন্দী।
বক্তারা বলেন, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং বিদেশে উচ্চ আয়ের প্রলোভনে মহেশখালীতে মানবপাচারের ঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে দালালচক্রের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। পর্যাপ্ত দক্ষতা ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বিদেশে গিয়ে তারা নানা ধরনের নির্যাতন, প্রতারণা ও মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।
সভায় আরও জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কর্মহীন যুবকদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এ ধরনের যাত্রায় অনেকেই মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে আটকা পড়ে মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি হচ্ছেন। মুক্তিপণের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে জমি-জমা ও বসতভিটা বিক্রি করতে হচ্ছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, সম্প্রতি মানবপাচারের অভিযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি মানবপাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় তৃণমূল পর্যায় থেকে মানবপাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
সভায় মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
